IMG-LOGO
বাড়ি প্রথম পৃষ্ঠা মমতাকে 'খুশি' করল নন্দীগ্রাম, দু'হাত তুলে আশীর্বাদ বঙ্গবাসীর
প্রথম পৃষ্ঠা

মমতাকে 'খুশি' করল নন্দীগ্রাম, দু'হাত তুলে আশীর্বাদ বঙ্গবাসীর

by Admin - 2021-05-02 12:38:30 1 Views 0 Comment
IMG


কলকাতা, ২ মে : ছিলেন বঙ্গের 'অগ্নিকন্যা', লড়াকু নেত্রী তো বটে, এখন তিনি 'বাংলার মেয়ে'। ভবানীপুর নয়, ২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম আসন থেকে। লড়াইটা কঠিন হলেও, জয়লাভ করেছেন। মমতাকে 'খুশি' করেছে নন্দীগ্রাম। বাংলার মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে নির্বাচনী প্রচারের অধিকাংশ সময়ই শোনা গিয়েছে, "খেলা হবে"। সত্যি খেলাই হল, নরেন্দ্র মোদীর ডবল ইঞ্জিনের সরকারকে প্রত্যাখ্যান করল বাংলার মানুষ। বনবন করে হাঁটেন মমতা, কিন্তু পায়ে চোট পাওয়ায় ভোটের প্রচারে হুইলচেয়ারই ছিল তাঁর ভরসা। অবশ্য ভোটের বাহন ছিল হেলিকপ্টার। এখন পা অনেকটাই ঠিক হয়েছে। তিনি একাই একশো, হুইলচেয়ারেই উত্তর থেকে দক্ষিণ-রাজ্যের সর্বত্র করেছেন প্রচার। পরিশ্রমের ফলও পেলেন মমতা। নন্দীগ্রামের মানুষ তো বটে, গোটা পশ্চিমবঙ্গ তাঁর মুখে হাসি ফোটাল। বলাই যেতে পারে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দু'হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন মমতাকে। 
একদা মমতার প্রিয় স্লোগান ছিল, ‘লড়াই-লড়াই-ল়ড়াই চাই’, যথা ‘লাল হটাও, দেশ বাঁচাও’। ২১-এর ভোটে মমতার মুখে শোনা গিয়েছে, ‘বিজেপি হটাও, দেশ বাঁচাও’। ‘মোদী হটাও, দেশ বাঁচাও’। আবার ‘হোঁদল কুতকুত’, ‘কিম্ভূতকিমাকার’ ইত্যাদিও বলেছেন। আরও দু'টি শব্দ যোগ না করলে নয়! মমতাকে ‘গদ্দার’, ‘মিরজাফর’ ইত্যাদি ইত্যাদি বলতেও শোনা গিয়েছে। ‘শ্রী’ এবং ‘সাথী’ এই দু'টি শব্দের ব্যবহার বেশ ভালোই করেছেন মমতা। যেমন শ্রী যুক্ত করে-কন্যাশ্রী। যুবশ্রী। রূপশ্রী। শিক্ষাশ্রী। সবুজশ্রী। খেলাশ্রী। এর পর ‘সাথী’। স্বাস্থ্যসাথী। খাদ্যসাথী। সবুজসাথী। পথসাথী। শিশুসাথী। এর মধ্যে আপাতত সবচেয়ে প্রিয় ‘স্বাস্থ্যসাথী’। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে প্রত্যাখ্যান করে মমতাতেই আস্থা রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনগণ। এই নিয়ে তিন-বার। ফলে হ্যাটট্রিক করলেন মমতা।
মমতার পাকা ঠিকানা ‘৩০ বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’ এবং সেখানকার টালির চালের ঘুপচি ঘর। ভোটের সকালে সেখানেই ছিলেন মমতা, জয় যখন একেবারে নিশ্চিত হয়ে যায়, তখনই কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পায়ে হেঁটে অফিসে ঢোকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালের অস্থায়ী ঠিকানা নন্দীগ্রামের ভাড়াবাড়ি। মমতা বলেছেন, হলদি নদীর ধারে একটা কুটির বানাবেন তিনি। নন্দীগ্রামের মানুষ তাঁকে খুশি করেছে, ফলে কুটির হচ্ছেই ধরে নেওয়া যেতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান অন্যান্য রাজনীতিবিদদের থেকে একটু ভিন্ন। কোনও রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নয়, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মমতার রাজনীতিতে হাতেখড়ি কলেজ জীবন থেকেই। এই সময়েই তাঁর কংগ্রেসে যোগদান। ১৯৮৪-তে মমতার প্রথম লোকসভা জয়। ওই বছরে তিনি দক্ষিণ কলকাতা থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও এই জয় তিনি ধরে রাখতে পারেননি। ১৯৮৯-এর নির্বাচনে একই এলাকা থেকে দাঁড়িয়েও পরাজিত হয়েছিলেন মমতা। ১৯৯১-এর লোকসভা নির্বাচন হারানো আসন ফিরিয়ে দিয়েছিল তাঁকে। জয়ের এই ধারাবাহিকতা তিনি ধরে রেখেছিলেন ২০০৯-এর সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত। রাজনৈতিক জীবনের একেবারে গোড়ায় মমতা ছিলেন কট্টর কংগ্রেস সমর্থক। ১৯৯৭-এ সেই ভাবমূর্তিতে কিছুটা বদল আনেন। ওই বছরই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে পৃথক দল গঠন করেন। নাম দেন তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার বর্তমান দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু আট থেকে আশির আদরের ‘দিদি’। রাজনীতির পাশাপাশি মমতা ইতিহাসে স্নাতক, ইসলামিক ইতিহাসে স্নাতকোত্তর। এছাড়া, আইন ও এডুকেশনেও তিনি স্নাতক। অবসরে কবিতা লেখেন, ছবি আঁকেন। এখনও পর্যন্ত তাঁর ৩০০-রও বেশি ছবি বিক্রি হয়েছে।